ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে সূচকে নিম্নমুখিতা

দেশের পুঁজিবাজারে ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে গতকাল সূচকে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে।

এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। সূচক কমলেও এদিন এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপের কারণে নিম্নমুখী ছিল সূচক। দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৬৮ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৩৯ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ৫১ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৮১ পয়েন্ট।

গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রবি আজিয়াটা ও প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২১টির, কমেছে ২৪৩টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির উদ্বেগে বাজারে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন। এতে সূচকে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১২ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। প্রকৌশল খাত ১১ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৮ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল বস্ত্র খাত। পঞ্চম অবস্থানে থাকা মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশিমক ১ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে চারটি খাত বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৫ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ব্যাংক খাতে। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ১ দশমিক ৮ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে ডিএসইতে গতকাল সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে। এছাড়া সিরামিক খাতে ১ দশমিক ৬ ও চামড়া প্রতিষ্ঠান খাতে দশমিক ৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৪৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ১১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৭৫ দশমিক ৮১ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৯৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৬৭ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯টির, কমেছে ৬৫টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির। গতকাল সিএসইতে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

আরও